ব্যবসা করার কৌশল এবং নিয়ম জানুন Best in 2022

ব্যবসা করার কৌশল এবং নিয়ম জানুন

আপনি ব্যবয়া ক্ষেত্রে নতুন? অথবা নুতন করে ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে? আপনি যদি নতুন করে ব্যবসা শুরু করার উদ্দগ নেন তাহলে এই প্রতিবেদনটি অবশ্যই আপনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনি নতুন করে ব্যবসা করার কৌশল এবং নিয়ম গুলো সম্পর্কে আলোচনা করবো্ 

বর্তমান সময়ে বেকারত্ব বেড়ে গেছে অনেক অংশেই। বেকারত্বকে যদি কমাতে হয় তাহলে চাকরির করার মতোভাব থেকে বেরিয়ে এসে ব্যবসা করার মনোভাব মনে পোষন করতে হবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে ব্যবসার থেকে চাকরির স্থিরতা থাকে বেশি, কিন্তু আপনি ব্যবসা করে আর্থিক যে স্বাধিনতা পাবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না। 

আমার এই কথা শুনে অনেকেই মনে মনে ভাবছেন যদি ব্যবসা করি তাহলে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দাঁর করাতে হবে। এছাড়াও প্রথম দিকে লাভ কখনই হবে না। এমনকি বড় ধরনের লোকসানও হতে পারে। 

আপনি যদি এই সমস্ত বাঁধাকে অতিক্রম করতে পারেন তাহলে চাকরির থেকে আপনি অনেক এগিয়ে থাকবেন এবং এই ব্যবসা দূর্ঘদিনের জন্য স্থায়ী হবে। 

ব্যবসা করার কৌশল এবং নিয়ম জানুন

চাকরির তুলনায় ব্যবসা করাটা কেন লাভজনক 

আমার কথা শুনে আবার মনে করবেন না যে আমি বলছি চাকরি করাটা খারাপ। তবে যদি কেউ আমাকে প্রশ্ন করে চাকরি করা ভালো নাকি ব্যবসা করা ভালো? তবে আমি এক কথা বলবো ব্যবসা করাই ভালো হবে। কারণ ব্যবসাতে সুবিধা এবং লাভ সাংঘাতিক পরিমানে বেশি। 

চাকরিতেও অনেক বেশি পরিমাণের টাকা আয় করা যায়। তবে চাকরির ক্ষেতে আপনি সুবিধা এবং স্বাধিনতা পাবেন না। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো চাকরিতে আপনি স্থায়ী ভাবে কাজ করতে পারবেন না্ 

তো বন্ধুরা কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক চাকরির তুলনায় ব্যবসা কেন লাভজনক এবং সুবিধাজনক। 

১. ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠানের মালিক আপনি নিজেই। সেটা চাকরির ক্ষেত্রে থাকছে না। আপনাকে অন্যের অধিনে কাজ করতে হবে। 

২. অর্থের দিক থেকে দেখলে চাকরির তুলনায় ব্যবসাতে লাভ বেশি। 

৩. আপনার যদি নিজেস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থাকে তালে পরবর্তী উত্তরপুরুষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। ব্যবসাতে স্থায়ী উত্তরাধিকারি থাকলে পরবর্তী প্রজন্ম এখান থেকেই টাকা আয় করতে পাবে। তবে চাকরির ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি থাকে না। 

৪. বেকারত্ব দূর করাতে ব্যবসা অকেক কার্যকরি। নিজের প্রতিষ্টিত ব্যবসায় যুবকদের চাকরি দিয়ে যেমন আপনার ব্যবসাকে বৃদ্ধি ঘটাতে পারবেন সেই সাথে বেকারত্ব কমতে থাকবে 

 

এখানে আপনি যদি আপনার ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাহরে আপনাকে অনেক জরুলি বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। এগুলো হলো ব্যবসা কী, একটি ব্যবসার জন্য কী কী প্রয়োজন, সঠিক বাবে ব্যবসা করাটা কতটা জরুলী, কিভাবে একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠা করা যায়।

মূলত একটি ব্যবসা মূলধন , শ্রমিক সংখ্যা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। তবে একটি ব্যবসাকে স্বাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

 

১. সল্প মূলধনের ব্যবসা

বর্তমানে সল্প মূলধনের ব্যবসার চাহিদা অনেক। সল্প মূলধনের ব্যবসা দিয়ে আপনি অনেক লাভবান হতে পারবেন। এছাড়াও নিজের আর্থিক অবস্থা দ্রুত উন্নত করা যায়। 

উদাহরণ দিয়ে বলতে গেলে একটি জাতীয় ব্যবসা হলো কফি সপ, ফাস্ট ফুড, জামা কাপরের ব্যবসা, হোম ডেলিভারির ব্যবসা, কসিমিটিক্স এর ব্যবসা ইত্যাদি। এগুলো সাধারণত সল্প মূলে ব্যবসা হিসেবে ধরা হয়। 

 

২. অধিক মূলধনের ব্যবসা 

যাদের বেশ কিছু টাকা পয়সা আছে তারা চাইলে অধিক মূলধনের ব্যবসা করতে পারেন। অধিক মূলধনের ব্যবসাগুলো হলো হাউজিং কমপ্লেক্স এর ব্যবসা, গাড়ির ব্যবসা, ক্ষুদ্র শিল্পের ব্যবসা, শেয়ার মার্কেটিং এর ব্যবসা ইত্যাদি। 

 

একটি ব্যবসা সল্প মূলধনের হোক বা অধিক মূলধনের হোক কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো দুটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। 

 

তো বন্ধুরা এখণ চলুন আজকের প্রতিবেদনের মূল আলোচান যাওয়া যাক। কিভাবে আমরা একটি ব্যবসা করতে পারি অথবা ব্যবসা করার কৌশল এবং নিয়ম গুলো কি কি। 

ব্যবসা করার কৌশল এবং নিয়ম জানুন

ব্যবসা করার কৌশল এবং নিয়ম

নিচে যে ব্যবসা করার কৌশল এবং নিয়ম গুলো দেওয়া হবে সেগুলো নতুন এবং পুরাতন সকল ব্যবসায়িদের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি এই কৌশল গুলোর প্রত্যেকটি বিষয় নজর দিয়ে সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারেন তাহলে আপনি সফল হতে পারবেন এবং আপনার ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। 

 

১. ব্যবসায়ী মনোভাব ও উদ্যোগ

আপনি যদি ব্যবসা করতে চান প্রথমেই আপনাকে যেটি করতে হবে সেটি হলো ব্যবসা করার মনোভাব তৈরি করতে হবে এবং ব্যবসা করার কৌশল  এর মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আপনার অনেক সমালচনা হবে। এটা দেখে আপনি যদি ব্যবসা করার মনোভাব ছেড়ে দেন তাহলে আপনি সফল ব্যবসায়ীক হতে পারবেন না। তাই প্রথমেই ব্যবসায়ীক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। 

 

২. মূলধন

যেকোনো ব্যবসায়ের মূল উপদান হলো মূলধন। মূলধন ছাড়া কখনই ব্যবসা করা যায় না। আপনার উপর দির্ভর করবে আপনি কেমন মূলধন বিনিয়োগ করবেন। 

সল্প মূলধনের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। যেমন ধরুন জামা কাপরের ব্যবসা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আপনার ব্যবসার প্রচার করতে হবে। আপনি বিভিন্ন মাধ্যমে জামা কাপরের প্রচার করতে পারেন। ইউটিউবের মাধ্যমে, ফেসবুকের মাধ্যমে, ওয়েব সাইটরে মাধ্যমে, ইত্যাদি মাধ্যমে গুলোর সাহায্যে আপনি ব্যবসার প্রচার করতে পারবেন। 

প্রচারের ক্ষেত্রে এবং জামা কাপরের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে আপনার কত টাকা খরচ হতে পারে সেটি আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে। সেই হিসেবে আপনি মূলধন তৈরি করে রাখতে পারবেন। 

 

৩. ব্যবসার স্থান নির্বাচন

ব্যবসা করার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থান নির্বাচন করা। আপনি যে কোনো স্থানে ব্যবসা করতে পারবেন না। ব্যবসা করতে হলে আপনাকে এমন একটি স্থান নির্বাচন করতে হবে যেখানে মানুষের চলাচল বেশি। 

 

৪. ব্যবসায়ের চাহিদা

ব্যবসা শুরু করা আগে আপনাকে হাজার বার চিন্তা করতে হবে বর্তমানে কোন জিনিসের চাহিদা বেশি। কোন জিনিস মানুষ বেশি ব্যবহার করে। সেই অনুযায়ী আপনার ব্যবসার উদ্যাগ নিতে হবে। 

 

৫. শ্রম ও সময়

আপনি যদি বলেন আমি ব্যবসা করবো তাহলেই কিন্তু আপনি ব্যবসা করতে পারবেন না। ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে কঠোর পরিশ্রম এবং সময় দিতে হবে। কারণ একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে সময় লাগে। ব্যবসা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে তেমন নয়। ব্যবসায়ের শুরুর দিকে আপনি অনেক সময় লোকসানের মুখোমুখিও হতে পারেন। আর সবসময় ব্যবসা শুরু আগে মনে রাখবেন যে এই বছর আমি ব্যবসারয় লস করবো। 

 

৬. প্রচার 

ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করার একটি গোপন টেকনিক হলো প্রচার। আপনার ব্যবসাটি যদি মানুষের কাছে না যায় তাহলে কিভাবে মানুষ আপনাকে চিনবে। তাই ব্যবসা প্রচার করার জন্য টাকা খরচ করুন। টাকা খরচ করার মাধ্যমেই আপনি আপনার ব্যবসাকে প্রচার করতে পারবেন এবং প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। 

 

৭. আইনগত সাবধানতা অবলম্বন করুন

আপনি ব্যবসা শুরু করার পর অনেক সময় অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। আর আপনার ব্যবসাটি যেন এমন সমস্যার মধ্যে না পরে তার জন্য আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স এর মাধ্যমে ব্যবসায়ের অনুমদন রাখতে হবে। যাতে করে কোনো প্রকার আইনগত সমস্যা না হয়। 

 

আমদের শেষ কথা

এই হলো আমাদের আজকের প্রতিবেদন। আশা করি আর্টিকেলটি আপনার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। আপনি যদি একজন সফল ব্যবসায়ীক হতে চান তাহলে এই প্রতিবেদনের প্রতিটি কথাই মেনে চলতে হবে। 

আপনার মূল্যবান সময় ব্যায় করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আর সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এবং নিয়োমিত এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে হলে আমাদেই এই সাইটের সাথেই থাকবেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.